অধীরের গড়ে ধ্বস! দল ছাড়লেন দুইবার এর বিধায়ক - The News Lion

অধীরের গড়ে ধ্বস! দল ছাড়লেন দুইবার এর বিধায়ক

 


দি নিউজ লায়নঃ      প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর ওপর গোসা। আর সেই গোসার জেরে রীতিমতো ধ্বস নামল কংগ্রেসের ঘর মুর্শিদাবাদে।গত ২০১১ ও২০১৬সালে নির্বাচিত কংগ্রেস বিধায়ক হওয়ার পরেও আসন্ন ২০২১ এ বিধানসভা নির্বাচনী পুনরায় প্রার্থী হতে না পেরে  অভিমানে দল ছাড়লেন কংগ্রেসের দাপুটে বিধায়ক তথা নেত্রী বড়ঞার প্রতিমা রজক। একইসঙ্গে দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকেও তিনি ইস্তফা দেন। বুধবার অভিমানী কংগ্রেস বিধায়ক প্রতিমা রজক এদিন  বলেন, মন ভালো নেই।আর দল করব না। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।


 দল কেন আমাকে প্রার্থী করেনি তা বলতে পারব না। দল ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রচারেও অংশগ্রহণ করব না। কারণ কোনও রকম কিছু হলে আমার ঘাড়ে দোষ চাপানো হতে পারে"। প্রসঙ্গত জানা গিয়েছে, বড়ঞা থেকে তাদের দলের এবার প্রার্থী হয়েছেন শিলাদিত্য হালদার। তিনি জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি। কয়েক মাস আগেই তাঁকে ওই বিধানসভা কেন্দ্র দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তখন থেকেই তিনি ঘুঁটি সাজাতে থাকেন। 


বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকায় গিয়ে ছোট ছোট বৈঠক করেন। তারপরই বিধায়কের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। বিধায়কের অনুগামীদের অনেকেই দলের বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রতিমাদেবীকেই প্রার্থী করার দাবি জানানো হয়। যদিও দলের আর একটা অংশ অধীর চৌধুরীর অত্যন্ত কাছের লোক হিসেবে পরিচিত শিলাদিত্যবাবুকে প্রার্থী হিসেবে চাইছিল। দলের দুই গোষ্ঠীর এই টানাপোড়েন প্রকাশ্যে আসতে থাকায় নেতৃত্বের অস্বস্তি বেড়েছিল। শেষ পর্যন্ত বর্তমান বিধায়ককে সরিয়ে শিলাদিত্যবাবুর উপর দল ভরসা রেখেছে। তবে ভোটের ময়দানে থেকে বিধায়ক সন্ন্যাস নেওয়ায় দল বিপাকে পড়েছে। কংগ্রেসের অনেকেই বলছেন, প্রতিমাদেবীর ভাবমূর্তি যথেষ্টই ভালো। 


তিনি দু’বারের বিধায়ক। এছাড়া দু’বার জেলা পরিষদের সদস্য হয়েছিলেন। কোনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত না থাকায় বিরোধীরাও তাঁকে আক্রমণ করতে পারত না। দুর্দিনেও তিনি দল ছেড়ে যাননি। তাই তাঁর এই সিদ্ধান্ত দলকে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। দলের এক নেতা বলেন, শিলাদিত্যবাবু এলাকার লোক নন। এই কেন্দ্রের ভোটাররা বহিরাগতকে মেনে নেবেন না। আগে দলের শীর্ষ নেতা যা সিদ্ধান্ত নিতেন সেটা সবাই মেনে চলতেন। এখন সেই অবস্থা নেই। তাছাড়া সংগঠনও আগের মতো মজবুত নয়। 


এই বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল ছাড়াও বিজেপিও দলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। কংগ্রেসের অনেক নিচুতলার কর্মী-সমর্থক গেরুয়া শিবিরকে সমর্থন করছে। তৃণমূলও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পগুলি সামনে রেখে নিজেদের ভিত অনেকটাই মজবুত করেছে। এই অবস্থায় প্রার্থী বদলের সিদ্ধান্ত দলের কাছে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। বিধায়কের অনুগামীরা ময়দানে না নামলে দলের সমস্যা আরও বাড়বে। 


কংগ্রেসের ঘরের কোন্দল বাইরে আসায় বিরোধীরা কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না। তৃণমূল প্রার্থী জীবনকৃষ্ণ সাহা বলেন, ওদের দলই বিধায়কের উপর ভরসা করতে পারল না। এই এলাকায় কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থেকেও কোনও কাজ করেনি। তাই বাইরে থেকে প্রার্থী এনেও কোনও লাভ হবে না"। অন্যদিকে মুর্শিদাবাদ জেলা বিজেপি সভাপতি গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন," বড়ঞায় কংগ্রেস ও তৃণমূল দুই দলের মধ্যেই প্রার্থী নিয়ে লড়াই চলছে। ওখানকার মানুষ আমাদের ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন"। অন্যদিকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এরপরই অধীর চৌধুরীর রাজনৈতিক সচিব তথা জেলা কংগ্রেস মুখপাত্র জয়ন্ত দাস বলেন,"বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে, পাশাপাশি প্রতিমা দেবির অভিমানের কারণ আমরা খতিয়ে দেখব"।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.